রাফির জীবনের করুণ উপাখ্যান

রাফির জীবন কাহিনী এতটা করুণ যে চোখে পানি ধরে রাখতে কষ্ট হয়। দুই বছর আগেও পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল রাফি। ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে যখন দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তিনি তখন তার চোখে চুন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়েছিল বখাটেরা। মানবজমিন সহ বেশ কিছু পত্রিকায় তখন এ সংক্রান্ত সংবাদ গুরুত্বের সাথে ছাপা হলে প্রসাশন সহ সকলে আশ্বাস দিয়েছিল ব্যবস্থা নেওয়ার।

২০১৭ সালেও তাকে আহত করা হয়

যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতকরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সে ব্যবস্থা কতটুকু নেওয়া হয়েছে তার প্রমান মেলে পরের ঘটনায়।

নির্মম এ হামলার ঠিক ২ বছর ১ মাস ১৫ দিন পর গত ৬ এপ্রিল আবারো তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। এবারে আগুনেই পোড়ানো হয় তাকে। আর এবার বখাটে নয় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে খোদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের।

রাফির অপরাধ তিনি বিচার চেয়েছিলেন। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে একজন বিকৃত মানসিকতার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন থানায়। আর তাই শেষ পর্যন্ত নিথর হয়ে গেলেন তিনি। আজীবনের জন্য।

২০১৭ সালের ছবি

রাফি একটা মেয়ে। আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতই মেয়ে। আমাদের মেয়েরা কিন্তু কত ব্যাথা, নির্যাতন নিরবে সহ্য করে যায় তা জানতে পারে না কেউ। রাস্তা-ঘাটে, শিক্ষালয়ে, হাটে-বাজারে আমাদের মেয়েরা অসংখ্য কটু বাক্য, প্রেম প্রস্তাব, ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েও তারা বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু মানুষরুপী জঘন্য, বীভৎস রুচির মানুষগুলো, নরকের কীট গুলো সেই সোনালী স্বপ্নগুলোকে পুড়িয়ে দেওয়ার দু:সাহস তখনি করে যখন সে ভাবে আমি আপনি তার কিছুই করতে পারবো না। এই সকল অমানুষদের প্রতিরোধ না করা গেলে রাফিদের মত পুড়ে যাবে অসংখ্য স্বপ্ন।

You may also like...