নিনজার ইতিহাস ও তাদের ব্যাপারে মজাদার কিছু বিষয়

নিনজার ইতিহাস ও তাদের ব্যাপারে মজাদার কিছু বিষয়

নিনজা বা শিনোবিকে সাধারণত ভাড়াটে সৈনিক বলা হয়। এরা কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা রাজার জন্য কাজ করে না, বা কোনো রাজনিতীর সাথে সরাসরি জড়িত নয়। এরা শুধু তার জন্যই কাজ করে যে তাদেরকে ভাড়া করে। আবার অনেক সামুরাই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিনজা রূপ ধারণ করে এবং রাতের অন্ধকারে শত্রুর মহলে হামলা করে। নিনজার ইতিহাসের শুরু জাপান থেকে। কিন্তু অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন যে, চীন থেকে মংকরা জাপানে যাওয়ার পর তারাই মূলত এ নতুন গোত্রের সৃষ্টি করে। কেউবা বলেন জাপানের সামুরাইয়ের দ্বারাই নিনজার পথচলা। নিনজার ইতিহাস অনেক পুরোনো যার ফলে এককভাবে কোনোটাকে সত্য ধরা যাচ্ছে না। তবু ইতিহাসে নিনজার ব্যাপারে চমকপ্রদ যেসব বিষয় লেখা আছে সেগুলোই আজ তুলে ধরছি।

নিনজাদের বিশেষ গুনগুলো হলো— গুপ্তচরবৃত্তি, শারীরিক ক্ষমতা, অস্ত্র ব্যবহারে বিশেষ দক্ষতা, পরিকল্পনাশীল ও শত্রুকে পরাজিত করার বিশেষ কৌশল। নিনজার মূল আবির্ভাব হয় ১৫ থেকে ১৭ শতাব্দির (সেনগকু সময়ে) দিকে। তবে অনেক ইতিহাসবীদের মতে ১২ শতাব্দিতেও এদের অস্তিত্ব ছিল।

সেনগকু সময়ের বিশৃঙ্খল অবস্থায় জাপানের ইগা প্রদেশে এবং ইগা প্রদেশের সংলগ্ন কোগা গ্রামে ভাড়াটে সৈনিক ও গুপ্তচর ভাড়া করা হতো। এবং মূলত এই দুই এলাকার বংশের ইতিহাসের মাধ্যমেই আমরা নিনজার ব্যাপারে এতকিছু জানতে পেরেছি। এরা সাধারনত নিম্নবর্গের লোক ছিল। জাপানের রাজা এদের ভাড়া করত। কারণ এরা সাধারণ সৈন্যের থেকে অনেক বেশি দক্ষ ছিল। নিশব্দে কোনো মহলে বা রাজপ্রাসাদে ঢুকে সব সৈন্যকে হত্যা করার জন্য এদের একটি ছোট খাটো দলই যথেষ্ট। পার্শবর্তি রাজ্য থেকে কোনো কিছু চুরি করে নিয়ে আসা বা কোনো গুপ্ততথ্য যোগাড় করে আনায় এদের জুরি মেলা ভাড়। ১৫ দশকের আগে নিনজাদের পরিচয় তেমন একটা ছিল না। তবে সেনগকু সময়েই এদের চাহিদা বাড়ে যার ফলে অনেকেই এ বিদ্যা চর্চা শুরু করে।

রাতের কর্মরত নিনজা মূলত পুরো শরীরজুড়ে কালো রঙের পোশাক পরে যাতে রাতের আঁধারে সহজে কারো চোখে না পড়ে। যদি কোনো নিনজা এমন কোনো কাজ পায় যা রাতের আধারে নয় তাহলে সে অবশ্যই চাইবে না যে কালো রংয়ের পোশাক পরে সে দিনের আলোতে সহজেই বাকিদের দৃষ্টি আকর্ষন করুক। তাই মুভি ও কমিকসের বাইরের বাস্তবতা অনুযায়ী নিনজারা খুব কমই কালো রংয়ের পোশাক পরত। সাধারনত তারা হলুদ-লাল অথবা গাঢ় নীল রংয়ের কাপড় পরত যা সে সময়ে কৃষকদের মধ্যে বেশি প্রচলিত ছিল। পোশাকের এই রংয়ের কারনে তাদেরকে সহজে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যেত না। তারা পোশাকের ভেতরে, লোহার আংটার সংযোগে তৈরি এক ধরনের বিশেষ বর্ম পরত যা শত্রুর অস্ত্র থেকে তাদের রক্ষায় কার্যকরি ছিল। হঠাৎ কোনো আক্রমনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখার জন্য, নিনজারা নিজের স্বাস্থের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দিত, যার ফলে তারা কখনোও তাদের ওজন ৬০ কেজির বেশি হতে দেয় নি। এজন্য তারা সব সময় নিয়ম অনুসারে খাবার খেত। তাদের পছন্দের খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো সয়াবিন জাতীয় খাবার। ভ্রমনের ক্ষেত্রে তারা এমন খাবার বহন করত যা ছোট হলেও খুব নিউট্রিশনযুক্ত। এগুলো মূলত তারাই তৈরি করত। এর মধ্যে হিইয়োরোউগান, কিকাতসুগান ও সুইকাতসুগান অন্যতম।

তারা অনেক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করত। যেমন— শুরিকেন, নিনজা তলোয়ার, কুসারিগামা, কুনাই, মাকিবিশি ইত্যাদি। এ অস্ত্রগুলো আক্রমন করা ছাড়াও শত্রুকে ফাঁকি দেয়া বা কোনো দেয়াল টপকানো ইত্যাদি কাজেও ব্যবহৃত হতো। কুসারিগামা ও কুনাই জাতীয় অস্ত্রগুলো যেমন আক্রমনে কাজে দেয় তেমনি পাহাড় বা উঁচু দেয়াল টপকাতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে মাকিবিশি সাধারনত ব্যবহার করা হয় শত্রুর গতি কমানোর জন্য।

নিনজাদের ব্যাপারে বলতে গেলে অনেক মজার ব্যাপারই বলা যায় কিন্তু সব বলতে গেলে আর্টিকেল লেখা আর শেষ হবে না। তারা খুব দক্ষ ছিল। কাজে সাফল্য আনার জন্য তারা অনেক ধরনের কৌশল অবলম্বন করত। যা শুনলে সবাই অবাক হবেন। নিশব্দে চলার কৌশল, তথ্য আদান-প্রদানে ঘুড়ির ব্যবহার, লুকানোর দক্ষতা এরকম আরও অনেক গুনাবলি আছে যা এই আর্টিকেলে লেখা হয়নি। স্বল্প লাইনে সবাইকে নিনজাদের ব্যাপারে একটু ধারণা দেয়াই এই আর্টিকেলের মূল প্রচেষ্টা।