তৈরি পোশাক শিল্পের নতুন মজুরি কাঠামোর আদ্যেপান্ত

বাংলাদেশের শ্রম আইনে অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরী বোর্ড প্রতি পাঁচ বছর পর পুনঃনির্ধারণ করার বিধান রয়েছে। ২০১৩ সালে সর্বশেষ  পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরী পুনঃনির্ধারণ করা হয়। ২০১৩ সালে ঘোষিত আইনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল পাঁচ হাজার তিনশত টাকা। আইন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড কর্তৃক পুনরায় শ্রমিকদের মজুরী পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। সেটি আবার নতুন করে পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে এ বছরের জানুয়ারিতে। নতুন এই মজুরি কাঠামোয় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী ঘোষণা করা হয়েছে ৮০০০ টাকা। পরিবর্তন আনা হয়েছে বেশ কিছু পদবীতে। চলুন জানা যাক, পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরী কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় আশি ভাগ আসে পোশাক শিল্প থেকে; Photographer: Noyon Asad
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় আশি ভাগ আসে পোশাক শিল্প থেকে; Image Courtesy: Noyon Asad

পোশাক শ্রমিকদের গ্রেডিং

পোশাক শ্রমিকদের বেতন ভাগ করা হয় মূলত গ্রেড অনুযায়ী। গ্রেডগুলো আবার রয়েছে দু’টি তফসিলের অধীনে। তফসিল “ক” এবং তফসিল “খ”। সাধারণত তফসিল “ক” তে উৎপাদনের সাথে জড়িত শ্রমিকরা থাকেন আর তফসিল “খ” তে থাকেন সেই সকল শ্রমিকগণ যারা সরাসরি ‍উৎপাদনের কাজে জড়িত থাকেন না।  তফসিল “ক” তে, এক থেকে সাত পর্যন্ত  রয়েছে সাতটি গ্রেড। সাত নম্বর গ্রেডটি হচ্ছে সর্বনিম্ন ও এক নম্বর গ্রেড সর্বোচ্চ। আর তফসিল “খ”তে রয়েছে এক থেকে চার পর্যন্ত চারটি গ্রেড। চলুন দেখা যাক এসব গ্রেডের পদবিন্যাস ও শ্রেণীবিভাগ।

তফসিলএর গ্রেড বেতন

শ্রমিকদের মজুরীতে বেশ কয়েকটি ভাগ রয়েছে যেমন, মুল মজুরী, বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ভাতা ও খাদ্য ভাতা। নতুন বেতন কাঠামোতে সকল গ্রেডের  শ্রমিকদের জন্যই চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা, খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা ও মূল মজুরির (বেসিক) পঞ্চাশ ভাগ ধরা হয়েছে বাড়ি ভাড়া ভাতা হিসেবে। আগে বাড়ি ভাড়া ছিল মূল মজুরির চল্লিশ ভাগ। সহজ ভাবে, সর্বমোট মজুরী থেকে চিকিৎসা, খাদ্য, যাতায়াত ভাতা বাদ দিয়ে অবশিষ্টকে ১.৫ দিয়ে ভাগ করলে বের হবে মুল মজুরি! তো এবার চলুন দেখি কোন গ্রেডের শ্রমিকরা কত টাকা পাবেন নতুন কাঠামোতে।

দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সত্ত্বেও তাদের নিজেদের জীবনযাত্রার মান খুব একটা ভালো নয়; Image Source: Noyon Asad
দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সত্ত্বেও তাদের নিজেদের জীবনযাত্রার মান খুব একটা ভালো নয়; Image Courtesy: Noyon Asad

গ্রেড

গ্রেড-১ মজুরী কাঠামোর সর্বোচ্চ গ্রেড। মোট চারটি পদবীর শ্রমিক রয়েছেন এই গ্রেডে। এই গ্রেডের শ্রমিকদের ন্যুনতম মুল মজুরি ১০৯৩৮ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৫৪৬৯ টাকা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতার মোট ১৮৫০ টাকা সহকারে সর্বমোট ন্যুনতম মজুরী ১৮২৫৭ টাকা। এই গ্রেডের পদবীগুলো হচ্ছে,

১. প্যাটার্ন মাস্টার,

২. চীফ কোয়ালিটি কন্ট্রোলার,

৩. কাটিং চীফ/মাস্টার ও

৪. চীফ মেকানিক।  

গ্রেড

দুই নাম্বার গ্রেডটিতে মাত্র দুটি পদবীর শ্রমিক রয়েছে। এই গ্রেডের শ্রমিকদের মুুল মজুরি ধরা হয়েছে ৯০৪৪ টাকা, পঞ্চাশ ভাগ বাড়ি ভাড়া ৪৫২২ টাকা সহ চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতার ১৮৫০ টাকা মিলে সর্বমোট মজুরি ১৫৪১৬ টাকা। এই গ্রেডের পদবীগুলো হচ্ছে,

১. মেকানিক ও

২. কাটিং মাস্টার।

গ্রেড

তিন নাম্বার গ্রেডটিতে রয়েছে মোট দশটি পদবীর শ্রমিক। তাদের মুল মজুরী ধরা হয়েছে ৫৩৩০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২৬৬৫ টাকা ও সকল ভাতার ১৮৫০ টাকা মিলে সর্বমোট তারা পাবেন ৯৮৪৫ টাকা। এই গ্রেডের পদবীগুলো হচ্ছে- 

১. সিনিয়র অপারেটর,

২. সিনিয়র কাটার,

৩. সিনিয়র কোটালিটি ইন্সপেক্টর,

৪. সিনিয়র মার্কার/ড্রইংম্যান

৫. সিনিয়র স্ক্রিন এক্সপোজার,

৬. সিনিয়র আয়রণম্যান,

৭. সিনিয়র স্যাম্পলম্যান/স্যাম্পল মেশিনিস্ট

৮. জুনিয়র মেকানিক,

৯. জুনিয়র ইলেকট্রিশিয়ান ও

১০. সিনিয়র লাইন লিডার।

একজন কাটার ম্যান; Image Courtesy: Noyon Asad
একজন কাটার ম্যান; Image Courtesy: Noyon Asad

গ্রেড

গ্রেড চারে রয়েছে “ক” তপশিলের সবচেয়ে বেশী পদবী। মোট ১৮টি পদবীর শ্রমিক রয়েছে  এই গ্রেডে। তাদের মুল মজুরী ৪৯৯৮ টাকা ও বাড়ি ভাড়া ২৪৯৯ টাকা ও সকল ভাতার ১৮৫০ টাকা সহযোগে, সর্বমোট পাবেন ৯৩৪৭ টাকা।এই গ্রেডের পদবীগুলো হল,

১. অপারেটর,

২. কাটারম্যান/নিডলম্যান/সিজারম্যান,

৩. কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর,

৪. মার্কার/ ড্রইংম্যান,

৫. ইস্যুম্যান/ইনপুটম্যান,

৬. বান্ডলিং ম্যান/ নাম্বারিং ম্যান

৭. অটো স্প্রেডার/লে ম্যান

৮. পলিম্যান/প্যাকিং ম্যান/ ফোল্ডিং ম্যান,

৯. ট্যাগম্যান/স্পটম্যান/রিসিভম্যান,

১০. প্রিন্টার/পেইন্টার/ড্রায়ারম্যান,

১১. স্ক্রিন এক্সপোজার,

১২. আয়রণম্যান/প্রেসিংম্যান,

১৩. ওয়েল্ডার/ফিটার/প্লাম্বার,

১৪. স্যাম্পলম্যান,

১৫. ডিস্ট্রিবিউটর,

১৬. সাধারণ মেকানিক,

১৭. সাধারণ ইলেকট্রিশিয়ান ও

১৮. লাইন লিডার।

কাজ করছেন একজন সুইং অপারেটর; Image Courtesy: Noyon Asad
কাজ করছেন একজন সুইং অপারেটর; Image Courtesy: Noyon Asad

গ্রেড

গ্রেড পাঁচে মোট পদবীর সংখ্যা ১৭টি। এই গ্রেডের মুল মজুরী ৪৬৮৩ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২৩৪২ টাকা ও সব ভাতার ১৮৫০ টাকা মিলে সর্বমোট তারা পাবেন ৮৮৭৫ টাকা।  এই গ্রেডের পদবীগুলো, 

১.  জুনিয়র অপারেটর (সকল ধরনের মেশিনের জন্য),

২.  জুনিয়র কাটারম্যান/ জুনিয়র নিডলম্যান/ জুনিয়র সিজারম্যান,

৩.  জুনিয়র কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর,

৪.  জুনিয়র মার্কার/জুনিয়র ড্রইংম্যান,

৫.  জুনিয়র ইস্যম্যান/জুনিয়র ইনপুটম্যান,

৬.  জুনিয়র বান্ডলিংম্যান/ জুনিয়র নাম্বারিংম্যান,

৭.  জুনিয়র অটো স্প্রেডার/ জুনিয়র লে-ম্যান,

৮.  জুনিয়র পলিম্যান/জুনিয়র প্যাকিংম্যান/জুনিয়র ফোল্ডিংম্যান,

৯.  জুনিয়র ট্যাগম্যান/জুনিয়র স্পটম্যান/জুনিয়র রিসিভম্যান,

১০.  জুনিয়র প্রিন্টার/জুনিয়র পেইন্টার/জুনিয়র ড্রায়ারম্যান,

১১.  জুনিয়র স্ক্রিন এক্সপোজার,

১২.  জুনিয়র আয়রণম্যান/ জুনিয়র প্রেসিংম্যান,

১৩.  জুনিয়র ওয়েল্ডার/জুনিয়র ফিটার/জুনিয়র প্লাম্বার,

১৪.  জুনিয়র স্যাম্পলম্যান,

১৫.  জুনিয়র ডিস্ট্রিবিউটর,

১৬.  সহকারী মেকানিক ও

১৭.  সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান।

কোয়ালিটি পরীক্ষা করছেন একজন শ্রমিক; Image Courtesy: Noyon Asad
পোশাকের মান পরীক্ষা করছেন একজন কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর; Image Courtesy: Noyon Asad

গ্রেড

মোট পনেরটি পদবী রয়েছে  এই গ্রেডের অধীনে। মুল মজুরী ৪৩৮০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২১৯০ টাকা ও সব ভাতা মিলে সর্বমোট পাবেন ৮৪২০ টাকা। পদবীগুলো হল,

১.  সাধারণ অপারেটর (সকল ধরনের মেশিনের জন্য)

২.  সাধারণ কাটারম্যান/সাধারণ নিডলম্যান/সাধারণ সিজারম্যান

৩. সাধারণ কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর,

৪. সাধারণ মার্কার/সাধারণ ড্রইংম্যান

৫. সাধারণ ইস্যুম্যান/সাধারণ ইনপুটম্যান

৬. সাধারণ বান্ডলিংম্যান/ সাধারণ নাম্বারিংম্যান

৭. সাধারণ অটো স্প্রেডার/সাধারণ লে-ম্যান

৮. সাধারণ পলিম্যান/ সাধারণ প্যাকিংম্যান/ সাধারণ ফোল্ডিংম্যান

৯. সাধারণ ট্যাগম্যান/সাধারণ স্পটম্যান/সাধারণ রিসিভম্যান

১০. সাধারণ প্রিন্টার/ সাধারণ পেইন্টার/সাধারণ ড্রায়ারম্যান

১১. সাধারণ স্ক্রিন এক্সপোজার

১২. সাধারণ আয়রণম্যান/ সাধারণ প্রেসিংম্যান

১৩. সাধারণ ওয়েল্ডার/সাধারণ ফিটার/সাধারণ প্লাম্বার

১৪. সাধারণ স্যাম্পলম্যান

১৫. সাধারণ ডিস্ট্রিবিউটর

রপ্তানির জন্য তৈরি পোশাক; Image Courtesy: Noyon Asad
রপ্তানির জন্য তৈরি পোশাক; Image Courtesy: Noyon Asad

গ্রেড সাত হচ্ছে “ক” তপশিলের সর্বনিম্ন পদবী। এই গ্রেডে সকল পদবীর শ্রমিকরাই মূলত কাজ করেন সহকারী হিসেবে। এই গ্রেডের অধীনে রয়েছে মোট ১৬টি পদবী। নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের মুল মজুরী ধরা হয়েছে ৪১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২০৫০ টাকা ও সব ভাতা মিলে ন্যুনতম মজুরী পাবেন ৮০০০ টাকা। এই গ্রেডের পদবীগুলো হল,

১. সহকারী অপারেটর (সকল ধরনের মেশিনের জন্য)

২. সহকারী কাটারম্যান/ সহকারী নিডলম্যান/ সহকারী সিজারম্যান

৩. সহকারী কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর,

৪. সহকারী মার্কার/ সহকারী ড্রইংম্যান,

৫. সহকারী ইস্যুম্যান/ সহকারী ইনপুটম্যান,

৬. সহকারী বান্ডলিংম্যান/সহকারী নাম্বারিংম্যান,

৭. সহকারী অটো স্প্রেডার/সহকারী লে-ম্যান,

৮. সহকারী পলিম্যান/ সহকারী প্যাকিংম্যান/ সহকারী ফোল্ডিংম্যান,

৯. সহকারী ট্যাগম্যান/ সহকারী স্পটম্যান/ সহকারী রিসিভম্যান,

১০. সহকারী প্রিন্টার/ সহকারী পেইন্টার/ সহকারী ড্রায়ারম্যান,

১১. সহকারী স্ক্রিন এক্সপোজার,

১২. সহকারী ওয়েল্ডার/ সহকারী ফিটার/ সহকারী প্লাম্বার,

১৩. সহকারী স্যাম্পলম্যান,

১৪. সহকারী ডিস্ট্রিবিউটর,

১৫. ফিনিশিং সহকারী,

১৬. সুতা ঝাড়া সহকারী ও

১৭. লাইন আয়রণম্যান।

তপশিলএর গ্রেডসমূহ

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে “খ” তপশিলের অধীনে মূলত  সে সকল শ্রমিক থাকে, যারা সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকে না।  তপশিল “খ” তে রয়েছে মোট চারটি গ্রেড। গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ৪। চলুন দেখে নেই তাদের শ্রেণীবিভাগ ও পদবিন্যাস।

গ্রেড ()

এই গ্রেডে রয়েছে ৩টি পদবী। যাদের মুল মজুরী ৮১৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৪০৭৫ টাকা ও সকল ভাতা মিলে সর্বমোট মজুরী পাবে ১৪০৭৫ টাকা। পদবীগুলো হচ্ছে,

১।   স্টোর কিপার,

২।   উচ্চমান সহকারী ও

৩।  সিনিয়র ফায়ারম্যান।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র একটি বিজ্ঞাপন; Image Source: BGMEA
পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র একটি বিজ্ঞাপন; Image Source: BGMEA

গ্রেড ()

গ্রেড-দুই এ রয়েছে মোট চৌদ্দটি পদবী। এই গ্রেডের শ্রমিকদের ন্যুনতম মুল মজুরী নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩০০ টাকা, বাড়িভাড়া ৩১৫০ টাকা ও সকল ভাতা মিলে যা গিয়ে দাড়াবে ১১৩০০ টাকায়। এই গ্রেডের পদবীগুলো হচ্ছে।

১. হিসাব সহকারী,

২. স্টোর সহকারী,

৩. ক্যাশিয়ার,

৪. নার্স/মেডিক্যাল সহকারী,

৫. কম্পিউটার অপারেটর,

৬. ড্রাইভার (হেভী লাইসেন্স প্রাপ্ত),

৭. ইমপোর্ট সহকারী/এক্সপোর্ট সহকারী,

৮. ফায়ারম্যান,

৯. সিনিয়র বয়লার অপারেটর,

১০. সিনিয়র ইটিপি অপারেটর,

১১. সিনিয়র ডব্লিউটিপি অপারেটর,

১২. সিনিয়র জেনারেটর অপারেটর,

১৩. সিনিয়র লিফট অপারেটর ও

১৪. সিনিয়র এসি অপারেটর

গ্রেড ()

 সর্বমোট পনেরটি পদবী রয়েছে এই গ্রেডে। এই গ্রেডের মুল বেতন ৫৯৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া  ২৯৭৫ টাকা ও সকল ভাতার ১৮৫০ টাকা মিলে যা গিয়ে দাড়াবে ১০৭৭৫ টাকায়। এই গ্রেডের পদবীগুলো হচ্ছে,

১. ক্লার্ক/অফিস সহকারী/ক্যাশ সহকারী,

২. টেলিফোন অপারেটর/ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর/ জুনিয়র কম্পিউটার অপারেটর,

৩. টাইম কিপার,

৪. কেয়ার টেকার,

৫.  সিকিউরিটি গার্ড,

৬. ড্রাইভার (লাইট ও মিডিয়াম লাইসেন্স প্রাপ্ত),

৭. বেবী সিটার/শিশ পরিচর্যাকারী,

৮. ফটোকপি মেশিন অপারেটর,

৯. বয়লার অপারেটর/পাম্প অপারেটর,

১০. ইটিপি অপারেটর,

১১. ডব্লিউটিপি অপারেটর,

১২. জেনারেটর অপারেটর/ কমপ্রেসার অপারেটর,

১৩. লিফট অপারেটর,

১৪. এসি অপারেটর ও

১৫. প্রোডাকশন রিপোর্টার।

আশার বিষয় কারখানগুলো এখন নিরাপদ কর্মপরিবেশের দিকে মনোযোগী; Image Courtesy: Noyon Asad
আশার বিষয় কারখানগুলো এখন নিরাপদ কর্মপরিবেশের দিকে মনোযোগী; Image Courtesy: Noyon Asad

গ্রেড ()

গ্রেড চার “খ” তপশিলের সর্বনিন্ম পদবী। এই গ্রেডে মোট ১৬টি পদবী রয়েছে। মুল মজুরী নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৫০ টাকা ও সবমিলে সর্বমোট মজুরী দাঁড়াবে ৮৩৭৫ টাকায়। এই গ্রেডের পদবীগুলো হচ্ছে,

১. পিয়ন,

২. কুক,

৩. দারোয়ান/চেকার/লোডার,

৪. সুইপার/ক্লিনার,

৫. গার্ডেনার/টি বয়/ ক্যান্টিন বয়,

৬. আয়া/বয়া,

৭. ড্রাইভার সহকারী,

৮.জুনিয়র সিকিউরিটি গার্ড,

৯. সহকারী বয়লার অপারেটর/সহকারী পাম্প অপারেটর,

১০. সহকারী ইটিপি অপারেটর,

১১. সহকারী ডব্লিউটিপি অপারেটর,

১২. সহকারী জেনারেটর অপারেটর/সহকারী কমপ্রেসার অপারেটর,

১৩. সহকারী লিফট অপারেটর,

১৪. সহকারী এসি অপারেটর ও

১৫. সহকারী প্রোডাকশন রিপোর্টার।

শিক্ষানবীশ শ্রমিক

উপরোক্ত গ্রেডগুলোর বাইরে শিক্ষানবীশ শ্রমিকদের জন্য রয়েছে আলাদা বেতন কাঠামো। তপশিল “ক” এর অধীনে শিক্ষানবীস শ্রমিকদের ন্যুনতম মোট মজুরি ধরা হয়েছে ৫৯৭৫ টাকা। অপরদিকে তপশিল “খ” এর অধীনে কোন পদবীর শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের মোট মজুরী নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১৬৪ টাকা। শিক্ষানবীশ কাল হবে সর্বোচ্চ ছয়মাস।

বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি

২৯ নভেম্বর ২০১৮  তারিখে আরেকটি গেজেটে বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বেতন সমন্বয় করার পর কোন শ্রমিক এক বৎসর কর্মরত থাকার পর বাৎসরিক ন্যুনতম পাঁচ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করতে হবে।

ডিসেম্বর  ২০১৮ থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই বেতন কাঠামো ও পদবিন্যাস। যা আইনানুযায়ী আবারো পুনর্গঠিত হবে পাঁচ বছর পর।

You may also like...